নামাযের প্রতি হযরত আলীর একাগ্রতা

একবার কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় শত্রু পক্ষের একটি তীর এসে আমিরুল মোমেনীন হযরত আলীর পায়ে বিদ্ধ হলো। ক্ষতস্থান দিয়ে দরদর করে রক্ত পড়া শুরু হলো। তীরটি ছিলো বিষাক্ত। তাই তিনি ব্যথায় চিৎকার করে উঠলেন। দুর থেকে সঙ্গী-সাথীরা  হযরত আলীর কাছে ছুটে এলেন। তারা পা থেকে তীরটি বের করার জন্য টান দিতেই তিনি যন্ত্রণায় শিউরে উঠলেন। সাহাবীরা পড়ে গেলেন মহা সমস্যায়। কারণ তীর বের করতে না পারলে রক্ত পড়া বন্ধ হবে না, ব্যথাও যাবে না। মহানবীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সবকিছু দেখছিলেন। তিনি বুঝলেন এভাবে আলীর পা থেকে তীর বের করা যাবে না। তাই তিনি কয়েকজন সাহাবীকে ডাকলেন। একটু দুরে গিয়ে তাদেরকে আস্তে আস্তে বললেন, তোমরা এক কাজ কর। আলী যখন নামাযে দাঁড়াবে তখন তোমরা তীরটি বের করে নেবে। রাসূলের পরামর্শ সবাই মেনে নিয়ে যার যার কাজে চলে গেল। বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements
Posted in ইসলাম ধর্ম | Tagged | মন্তব্য দিন

নেতৃবৃন্দের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন ইত্যাদি

প্রশ্নঃ স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, স্মৃতিস্মম্ভ, মূর্তি-প্রতিকৃতি, নেতৃবৃন্দের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন ইত্যাদি পালন করা কি জায়েজ?

উত্তরঃ নাজায়েজ।
(ক) পুস্পস্তবক অর্পণঃ যারা শহীদ হয়েছেন, ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মা আল্লাহর কাছে পুষ্পপল্লবে ঘেরা ঘন সবুজ শ্যামলবৃক্ষলতায় পরিপূর্ণ সুরভিত জান্নাতে বিচরণ করছে। শহীদ এবং ঈমানসহ মৃত্যুবরণকারী সকল মুসলিমের আত্মাই তাদের যোগ্যতা ও আমলের তারতম্য অনুসারে পাখিরূপে জান্নাতে রয়েছে বলে বিশুদ্ধ হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “শহীদগণের রূহ আল্লাহর সান্নিধ্যে সবুজ পাখিদের মধ্যে থাকবে এবং জান্নাতের বাগ- বাগিচা ও নহরসমূহে ভ্রমণ করবে”। [সহীহ মুসলিম] বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম ধর্ম | Tagged , | মন্তব্য দিন

বাইবেলের অসংগতি আর একজন বিধর্মীর ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তন

বাইবেলের অসংগতি আর একজন বিধর্মীর ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তন

আস-সালামু আলাইকুম!

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজকের যে বিষয়টি আমি লিখতে যাচ্ছি, সে বিষয়টি আমি জেনেছি যসুয়া ইভানস নামের একজন প্রাক্তন খৃষ্টান ইউথ মিনিষ্টার এর ভিডিও দেখে। যেখানে তিনি বর্ননা করেছেন, কেমন করে বাইবেলে লেখা অসংগতিপূর্ন তথ্যগুলো তাকে ধীরে ধীরে খৃষ্টান ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। আর আল্লাহ সুবহানুতায়ালা কেমন করে তাকে অন্য কোন মানুষের সাহায্য ছাড়াই হেদায়েত দান করেছেন।

যদিও বাইবেল থেকে একটি গল্প শোনানোই আজকের মূল উদ্দেশ্য, কিন্তু এরই মাঝে আরেকটা কথা না বলে পারছি না। আর তা হলো, যারা বলেন – মাওলানা বা পীর ছাড়া আল্লাহর সীরাতুল মুস্তাকীমের সন্ধান পাওয়া সম্ভব না, তারা ভুল বলেন। তার ২ টা প্রধান কারন আছে। যসুয়া ইভানস তার জীবন্ত উদাহরন।

১) আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করার ইচ্ছা পোষন করেন, তাকে তিনি কোন না কোনভাবে হেদায়েত ঠিকই পৌছে দেন।

আর ২) আল-কোরআন মহানবী (সাঃ) এর রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় সত্যের দলীল, যা পাঠ করে অনুধাবন করার চেষ্টা করলে সত্যের সন্ধান পায় না – এমন মানুষ খুব কম আছে। তবে কেউ যদি এই কিতাব থেকে শুধু আবৃত্তি করে -তাহলে অবশ্য তার পক্ষে কিছুই জানা সম্ভব না। পড়া আর জ্ঞান অন্বেষন করা এক কথা নয়। একটা শুধু উচ্চস্বরে কিছু বাক্য উচ্চারন করা, অন্যটা অধ্যবসায়। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, সত্যকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হওয়া। তারপরে যখন সত্যটা মিলে যায়, তখন আনন্দে আপ্লুত হওয়া।

আর এই দু’য়ের সমন্বয়ের কারনেই যসুয়া ইভানস আজকে মুসলিম উম্মাহের একজন গর্বিত মুসলিম এবং সক্রিয় দায়ী। সুবহানআল্লাহ!

অল্প সময়ে সম্পূর্ন কাহিনী তুলে ধরা সম্ভব না। তাই শুধু বাইবেল থেকে একটি অসংগতিপূর্ন কাহিনী তুলে ধরছি। আল-কোরআনের  বর্নিত হযরত লুত (আঃ) এর কাহিনী সবারই জানা আছে। যার সমসাময়ীক সম্প্রদায়কে সমকামিতার অপরাধে সম্পূর্ন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। তার শহরের অধিবাসীদের প্রতি আল্লাহর এই আযাবের গল্প বাইবেলেও আছে। কিন্তু শহরের অধিবাসীরা আল্লাহর আযাবে পতিত হওয়ার পর হযরত লুত (আঃ) এর জীবনে এর পরে কি ঘটেছিল এবং এই ব্যাপারে বাইবেল কি বলে জেনে নিন।

[বাইবেলের অংশটি লাল অক্ষরে লিখলাম। অনুগ্রহ করে কেউ ভুল করে তাকে আল-কোরআনের অংশ মনে করবেন না।

পয়গম্বর লুত যোয়ার শহরে গিয়ে এক পাহাড়ে দুই মেয়েকে নিয়ে বাস করতে লাগলেন। তিনি শহরে বাস করতে ভয় পাচ্ছিলেন আর আর সেই কারনে পাহাড়ের একটি গুহায় বাস করতে লাগলেন।

এবং বড় কন্যাটি তার ছোট বোনটিকে বললো, “আমাদের পিতা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। এবং পৃথিবীর (সব মানুষ আযাবে পতিত হয়ে) ধ্বংস হয়ে যাবার পর আর কোন ছেলে মানুষও নাই যারা আমাদের সাথে থাকতে পারে। আসো আমরা আমাদের বাবাকে মদ্যপান করিয়ে নেশাগ্রস্ত করে তুলি এবং আমরা তার সাথে রাত্রি যাপন করবো – যাতে করে আমরা আমাদের বাবার বীজকে সংরক্ষন করতে পারি।”

অতঃপর তারা সেই রাত্রে তাদের বাবাকে মদ্যপান করালো এবং প্রথম কন্যাটি তার সাথে রাত্রি যাপন করলো। কখন মেয়েটি আসলো, রাত্রি যাপন করলো এবং উঠে চলে গেলো, তিনি (পয়গম্বর লুত) কিছুই জানতে পারলেন না।

পরের রাত্রে প্রথম কন্যাটি তার ছোট বোনটিকে বললো, “গতরাতে আমি বাবার সাথে রাত্রি যাপন করেছি। চলো আজকে রাতেও আমরা তাকে মদ্যপান করিয়ে নেশাগ্রস্ত করে দেই এবং আজকে তুমি তার সাথে রাত্রি যাপন করো, যাতে করে আমরা আমাদের বাবার বীজকে সংরক্ষন করতে পারি।”

অতঃপর সেই রাত্রেও তারা তাদের বাবাকে মদ্যপান করালো এবং ছোট কন্যাটি তার সাথে রাত্রি যাপন করলো। কখন মেয়েটি আসলো, রাত্রি যাপন করলো এবং উঠে চলে গেলো, তিনি (পয়গম্বর লুত) কিছুই জানতে পারলেন না।

আর এভাবেই পয়গম্বর লুতের দুই মেয়ে তাদের পিতার ঔরশজাত সন্তান গর্ভে ধারন করলো। প্রথম কন্যার গর্ভে একটি ছেলে সন্তান জন্ম হলো – যার নাম রাখা হলো মোয়াব। তিনিই হলেন মোয়াবাইটস জাতির পিতা (অর্থাৎ তার বংশধরেরা মোয়াবাইটস নামে পরিচিতি লাভ করলো)।

ছোট কন্যাটিও একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিল এবং তার নাম রাখা হলো বেন-আমী। তিনিই হলেন আমুন জাতির পিতা (অর্থাৎ তার বংশধরেরা আমুন নামে বিস্তার লাভ করলো)।

বাইবেলের কাহিনীটি এখানেই লুত (আঃ) এর গল্পটি শেষ করে। নাউজুবিল্লাহ! কত বড় মিথ্যাচার। এবার আসুন এই কাহিনীর অসংগতিগুলি কি কি পর্যালোচনা করি।

১) শহরে যদি মানুষ না থাকবে, তাহলে পয়গম্বর লুত কাকে ভয় পাচ্ছিলেন? কার ভয়ে পাহাড়ে গুহায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন?  আল্লাহ’র আযাবের ভয়তো উনার করার কথা না। কারন আল্লাহতো পয়গম্বরের পক্ষে। তাহলে শহরে মানুষ ছিল। যাদের ভয়ে তিনি পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন।

২) শহরে যদি মানুষ থাকবে, তাহলে পয়গম্বর কন্যাদের বাবার সাথে রাত্রি যাপন করার কি যুক্তি থাকতে পারে?

৩) যুক্তির খাতিরে ধরেই নিলাম – পৃথিবীতে আর কোন মানুষ ছিল না, এই ৩ টি মানুষ ছাড়া – পয়গম্বর লুত আর তার দুই কন্যা। কিন্তু যে পয়গম্বর আল্লাহ’র আদেশে সমকামীতার বিরুদ্ধে মানুষকে উপদেশ দিয়েছিলেন, জিহাদ করেছিলেন, যে গুনাহের কারনে আল্লাহ সমস্ত মানব জাতিকে (শুধু ৩ জন মানুষ ছাড়া) ধ্বংস করে দিলেন, তার কন্যারা কেমন করে তাদের নিজ বাবার সাথে রাত্রি যাপন করলো এবং তাদের বাবার ঔরসে গর্ভ ধারন করলো? ইংরেজীতে এই ধরনের পাপাচারকে বলা হয় ইনসেস্ট, বাংলায় অজাচার। যার অর্থ হলো – বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ – বিয়ে করা যাবে না এমন নিকট আত্মীয়ের সাথে শারিরীক সম্পর্ক করা। যেমন বাপ-মেয়ে, মা-ছেলে, ভাই-বোন…ইত্যাদি। এই পাপাচারতো সমকামীতার চেয়েও জঘন্য।

৪) লক্ষ্য করুন, দুই বোনের ঘরেই দুই ছেলে সন্তানের জন্ম হলো। তাহলে, এই ছেলেদের বংশধর কিভাবে বিস্তার লাভ করলো? যা কিনা মোয়াবাইটস এবং আমুন নামে পরিচিত হলো। তাহলে এই ছেলেরা কার সাথে রাত্রি যাপন করে – বংশ বিস্তার করলো?

৫) আবারো যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম পৃথিবীতে ৩ টি মানুষ ছাড়া আর কেউ ছিল না। এখন আল্লাহ যদি আদম (আঃ) কে বাবা মা ছাড়া সৃষ্টি করতে পারেন, আল্লাহ যদি বাবা ছাড়া ঈসা (আঃ) কে সৃষ্টি করতে পারেন, তাহলে কি তিনি বাবা ছাড়া লুত (আঃ) এর মেয়েদের গর্ভে সন্তান দিতে পারতেন না?

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, একবার ভেবে দেখুন। বাইবেলের মাত্র ছোট্ট একটা অংশ – আর কতগুলো অসংগতি পূর্ন বক্তব্যে ভরা। তারপরেও কি কোন সন্দেহ থাকতে পারে, এটা আল্লাহর রচিত সেই ইঞ্জিল শরীফ নয়, বরঞ্চ মানব রচিত বিকৃত তথ্যের একটি গ্রন্থ মাত্র? পয়গম্বরদের নিয়ে এই রকম আরো বহু ব্যাভিচার আর অনৈতিক গল্পে ভরা এই বাইবেল। আর যে ধর্মগ্রন্থে পয়গম্বররাই এমন ব্যাভিচারে লিপ্ত, যে ধর্মগ্রন্থ অনুসরন করে – সমাজে অনাচার ব্যাভিচার ছাড়া আর কি প্রাপ্তী থাকতে পারে? আর বাস্তবিকই তাই হচ্ছে না কি?

যসুয়া ইভানস বাইবেলে বর্নিত এই ধরনের মানুষগুলিকে নবী বলে মেনে নিতে পারেননি। যাদের নিজেদের নৈতিক চরিত্র নাই, তারা ধর্মের পয়গম্বর হয় কেমন করে? কেমন করে তাদেরকে আদর্শ হিসাবে মেনে নেওয়া যায়? এই দ্বন্ধে ভুগছিলেন যশুয়া। তাই বাইবেল পড়ে তিনি উপসংহারে পৌছান এটা ইশ্বরের লেখা কিতাব হতে পারে না। তাই তিনি খৃষ্টীয় ধর্ম পরিহার করে সত্য ধর্মের অনুসন্ধান করতে থাকেন।

অনেক বছর অনুসন্ধান করার পরে – অনেক অনেক ধর্ম অনুসন্ধান করেও যখন সত্যের সন্ধান পেলেন না। তখন তিনি উপসংহারে পৌছান যে ধর্ম বলে কিছু নেই, ইশ্বর বলে কিছু নেই।

তারও অনেক দিন পরে তার জীবনে ৩ টি ঘটনা ঘটে। প্রথম দু’টো দূর্ঘটনা – সময়ের অভাবে আজকে লিখছি না। আর তৃতীয় ঘটনাটি হচ্ছে আল-কোরআনের সন্ধান। আর আল-কোরআনের নুহ (আঃ), লুত (আঃ) প্রমূখ পয়গম্বরদের জীবন জানার পরে তিনি অবাক হয়ে ভাবলেন – কি চমৎকার চরিত্র এই নবীদের। এরাই সত্যিকারের আল্লাহ’র প্রতিনিধি, মানুষের নেতা হবার যোগ্য মানুষ। এদেরকেই জীবনের আদর্শ হিসাবে মানা যায়। আর সেই থেকে আগ্রহ ইসলাম সম্পর্কে।

মু’মীন বান্দা মুসলমানের ঘরে জন্ম নেয়না। জন্মসুত্রে পৃথিবীর সব মানুষই মুসলমান। কিন্তু বালেগ হওয়ার পর – একমাত্র জ্ঞান অন্বেষন করেই মানুষ হতে পারে মু’মীন মুসলমান।

আলহামদুলিল্লাহ, সম্পূর্ন নিজের অন্বেষনে – যসুয়া আজ মু’মীন বান্দাদের একজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসমিল উম্মাহ’র একজন প্রখ্যাত দাওয়াতী। আসুন, আমরা সবাই এই প্রার্থনা করি – মহান আল্লাহ-পাক যেন যশুয়া ইভানসের প্রচেষ্টা কে কবুল করে নেন এবং আমাদের সবাইকে তার মত হেদায়াত প্রাপ্ত হওয়ার, প্রকৃত মু’মীন হওয়ার তৌফিক দান করেন। আমীন!

Posted in ইসলাম ধর্ম | Tagged | মন্তব্য দিন

পাহাড়ের গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবক

পাহাড়ের গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবক

একবার তিনজন লোক পথ চলছিল, এমন সময় তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হ’ল। অতঃপর তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। হঠাৎ পাহাড় হ’তে এক খণ্ড পাথর পড়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা একে অপরকে বলল, নিজেদের কৃত কিছু সৎকাজের কথা চিন্তা করে বের কর, যা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য তোমরা করেছ এবং তার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নিকট দো‘আ কর। তাহ’লে হয়ত আল্লাহ তোমাদের উপর হ’তে পাথরটি সরিয়ে দিবেন। তাদের একজন বলতে লাগল, হে আল্লাহ! আমার আব্বা-আম্মা খুব বৃদ্ধ ছিলেন এবং আমার ছোট ছোট সন্তানও ছিল। আমি তাদেরভরণ-

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম ধর্ম | Tagged | মন্তব্য দিন

আক্বীদাহ সংক্রান্ত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাহ

আক্বীদাহ সংক্রান্ত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাহ

২১. প্রশ্নঃ আল্লাহ তা‘আলা নাবী ও রাসূলগণকে দুনিয়ায় কী জন্য পাঠিয়েছিলেন?
উত্তর: আল্লাহ তা‘আলা নাবী ও রাসূলগণকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের মাধ্যমে মানুষদেরকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে তথা আল্লাহর একত্ববাদের দিকে দাওয়াত দেয়ার জন্য। আর আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করা থেকে মানুষদেরকে বিরত রাখার জন্য। আল্লাহ তাআলার কথাই এর দলীল। যেমন তিনি বলেন:
﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِيْ كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُوْلاً أَنِ اعْبُدُوْا اللهَ وَاجْتَنِبُوْا الطَّاغُوْتَ﴾

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম ধর্ম | Tagged | মন্তব্য দিন

যারা ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী এর পক্ষে তারা দয়া করে পুরো লিখাটা পড়বেন

যারা ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী এর পক্ষে তারা দয়া করে পুরো লিখাটা পড়বেন***********

 

 

পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা। সালাত ও সালাম মহান রাসূল, আল্লাহর হাবীব ও মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের উপর।আজকের বিশ্বে মুসলিম উম্মার অন্যতম উৎসবের দিন হচ্ছে ‘‘ঈদে মীলাদুন্নবী’’। সারা বিশ্বের বহু মুসলিম অত্যন্ত জাঁকজমক, ভক্তি ও মর্যাদার সাথে আরবী বৎসরের ৩য় মাস রবিউল আউআল মাসের ১২ তারিখে এই ‘‘ঈদে মীলাদুন্নবী’’ বা নবীর জন্মের ঈদ পালন করেন।

বিস্তারিত পড়ুন

Posted in ইসলাম ধর্ম | Tagged | মন্তব্য দিন

ঈদে মিলাদুন্নাবী

মিলাদ-কিয়ামের আদিকথা : ও ঈদে মিলাদুন্নাবী পালনের শরঈ যুক্তিকতা
 ২০ জানুয়ারী ২০১৩, সন্ধ্যা ০৭:৪৯ সোনার বাংলা ব্লগ থেকে

একথা সর্বজনবিদিত যে আখেরি নবী মুহাম্মাদ স. এর প্রতি ভালোবাসা, গভীর মহব্বত রাখা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রিয় নবীজি সা. এর জন্মলগ্ন থেকে তিরোধানের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তার পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্মকান্ডের আলোচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তা অনুসরণ করা মহান আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির বড় মাধ্যম এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে।
তবে উক্ত ইবাদত আমাদের অবশ্যই সে পদ্ধতিতে করতে হবে যে পদ্ধতি স্বংয় নবী করিম সা. তার সাহাবাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। অত:পর সাহাবায়ে কেরাম শিখিয়েছেন তাবেঈনগণকে এবং তাবেঈনগণ পরবর্তীদের শিখিয়ে গেছেন। সে পদ্ধতি হচ্ছে দিন ক্ষণ ও সময় নির্ধারণ এবং আনুষ্ঠানিকতার বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে রাসূল সা. এর জীবনী আলোচনা করা এবং দরুদ শরিফ পাঠ করা। মনগড়া বা ভিত্তিহীন কোনো তরীকায় করলে তা ইবাদত বলে গণ্য হবে না। এজন্য রাসূল সা.এর জীবনাদর্শ, আহকামে দ্বীন, শরঈ বিধি বিধান সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।
সুতরাং রাসূল সা. এর জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা করা সুয়াব-বরকতের বিষয়। এ দ্বীনি কাজ শরঈ সীমারেখা উপেক্ষা করে আমাদের দেশের কিছু ভণ্ড মুর্খ লোকেরা নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট দিবসের সংঙ্গে নির্দিষ্ট করে মীলাদ শরিফ নামে সম্মিলিত সুরে গদবাধা কিছু পাঠের অনুষ্ঠান ও কিয়ামের রীতি চালু করেছে। কুরআন-হাদিসে এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাঈনদের যুগে খুজে পাওয়া যায় না। অথচ সর্ব স্বীকৃত সত্য হলো তারাই ছিলেন প্রকৃত নবীপ্রেমি খাটি আশেকে রাসূল এবং তার আদর্শের পরিপূর্ণ অনুসারি ধারক-বাহক ও বাস্তব নমুনা।
প্রচলিত এ মিলাদ-কিয়ামের উদ্ভব ঘটে ৬০৪ হিজরি সনে। ইরাকের মাসুল শহরের গর্ভনর আবু সাঈদ মুজাফফর কাকরি ও তার দরবারি আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া। এ দুজন মিলে এর প্রচলন ঘটায়। এরা উভয়েই দ্বীনের ব্যাপারে খুবই উদাসিন এবং ফাসিক প্রকৃতির লোক ছিল। পরবর্তীতে অজ্ঞতা, মুর্খতা ও জাহালতের অন্ধকারে নিমজ্জিত শ্রেণীর লোকদের মাধ্যমে আরো অনেক কুসংস্কার, শরিয়ত বিরোধ বিশ্বাস ও কার্যাবলী এতে সংযোজিত হতে থাকে। যার প্রায় সব কিছুই শরিয়তের মেৌলিক প্রামাণ্য সব দলিলেরই পরিপন্থী।
এ সকল কারণে প্রচলিত মিলাদ কিয়াম না জায়েজ I বিদাতের অন্তর্ভুক্ত বলেই সকল হক্কানি উলামায়ে কেরাম একবাক্যে ফতোয়া দিয়ে থাকেন।
[দেখুন : আদ দুররুল মুখতার ৬/৫২, ফাতহুল কাদীর ১/৩০৪]

এবার দ্বিতীয় বিষয়ে আসা যাক। এক্ষেত্রেও সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণই হলেন আমাদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। ঈদে মিলাদুনন্নাবী যদি উম্মাহের পালনীয় দিন হয়ে থাকে_ তাহলে অবশ্যই আবু বকর রা., উমর রা. উসামান রা. ও আলী রা. পালন করে থাকবেন। কারণ তারাই ছিলেন রাসূলের সবচেয়ে প্রিয়ভাজন সাথী। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি যে উক্ত চার খলীফার খেলাফতের ৩০ বছরের সোনালী যুগে কেউ কোনো দিন ঈদে মিলাদুন্নাবী নামে কোনো অনুষ্ঠান করেছেন। এমনকি পরবর্তী তাবেঈন, তাবে তাঈন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের কেউ এর পক্ষে কোনো মতামত দিয়েছেন। তাহলে যে দিবসটি বিগত ১৪০০ বছরে কেউ ঘটা করে পালন করেনি। ১৪০০ বছর পরে তা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হওয়া_ মায়ের চেয়ে মাশির দরদ বেশি এমন হয়ে গেল না?

পাঠক! আপনিই বলুন_ সমাজের চোখে সেই ছেলে কেমন বলে বিবেচিত হবে, যে তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে আনন্দ ফূর্তি করে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ভোজ সভা করে? কারণ, নবীজি সা. ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছে_ এবিষয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে মতো বিরোধ রয়েছে। কোনো কোনো ঐতিহাসিকদের মতে নবীজি সা. এর জন্ম তারিখ ছিল_ ৮,১০,১২,১৩। সেমতে ১২ তারিখকেই জন্ম তারিখ নিশ্চিত ধরা যায় না। পক্ষান্তরে নবীজি সা. এর মৃত্যু তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল ছিল এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই।

মূলত : এদিনটি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি শুরু হয়েছে দুই দশক থেকে। ইতিপূর্বে সরকারী ও জাতীয়ভাবে এমন ঘটা করে দিবসটি পালন হয়নি। বলা যায় এদিনটিকে জীতিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে বেদ’য়াতী পত্রিকার মালিক ইকিলাবের বাহাউদ্দীনের ভূমিকা ছিল মুখ্য। তিনিই বায়তুল মোকাররমে ভন্ড খতীব নিয়োগ ও প্রকাশ্যে বেদাতী কাজের পৃষ্টপোষকতা করে যাচ্চেছন। তাই তথাকথিত আশেকে রাসূলদের লম্ফজম্ফ দেখে আমার বারবার মনে পড়েছে রাসূল সা. এর সে বাণীর কথা_ হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. ইরশাদ করেন_ শেষ জামানায় দাজ্জাল-কাযযাবদের (প্রতারক-মিথ্যুক) আর্ভিবাব ঘটবে, তারা তোমাদের নিকট এমন এমন অভিনব বিষয় নিয়ে আসবে যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বসুরিগণ কখনো শুননি। অতএব, সে সময় তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তাদেরকেI তোমাদের থেকে দূরে রাখবে।যেনো তোমরা পথভ্রষ্ট না হও এবং তারাও তোমাদেরকে ভ্রষ্ট করতে না পারে। মুসলিম
পরিশেষে, সকল বন্ধুদেরকে সঠিক পথ বুঝে তা অনুসরণের আহব্বান জানাই। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাউফিক দান করুন। আমিন।

Posted in ইসলাম ধর্ম | Tagged | মন্তব্য দিন