বাইবেলের অসংগতি আর একজন বিধর্মীর ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তন

বাইবেলের অসংগতি আর একজন বিধর্মীর ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তন

আস-সালামু আলাইকুম!

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজকের যে বিষয়টি আমি লিখতে যাচ্ছি, সে বিষয়টি আমি জেনেছি যসুয়া ইভানস নামের একজন প্রাক্তন খৃষ্টান ইউথ মিনিষ্টার এর ভিডিও দেখে। যেখানে তিনি বর্ননা করেছেন, কেমন করে বাইবেলে লেখা অসংগতিপূর্ন তথ্যগুলো তাকে ধীরে ধীরে খৃষ্টান ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। আর আল্লাহ সুবহানুতায়ালা কেমন করে তাকে অন্য কোন মানুষের সাহায্য ছাড়াই হেদায়েত দান করেছেন।

যদিও বাইবেল থেকে একটি গল্প শোনানোই আজকের মূল উদ্দেশ্য, কিন্তু এরই মাঝে আরেকটা কথা না বলে পারছি না। আর তা হলো, যারা বলেন – মাওলানা বা পীর ছাড়া আল্লাহর সীরাতুল মুস্তাকীমের সন্ধান পাওয়া সম্ভব না, তারা ভুল বলেন। তার ২ টা প্রধান কারন আছে। যসুয়া ইভানস তার জীবন্ত উদাহরন।

১) আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করার ইচ্ছা পোষন করেন, তাকে তিনি কোন না কোনভাবে হেদায়েত ঠিকই পৌছে দেন।

আর ২) আল-কোরআন মহানবী (সাঃ) এর রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় সত্যের দলীল, যা পাঠ করে অনুধাবন করার চেষ্টা করলে সত্যের সন্ধান পায় না – এমন মানুষ খুব কম আছে। তবে কেউ যদি এই কিতাব থেকে শুধু আবৃত্তি করে -তাহলে অবশ্য তার পক্ষে কিছুই জানা সম্ভব না। পড়া আর জ্ঞান অন্বেষন করা এক কথা নয়। একটা শুধু উচ্চস্বরে কিছু বাক্য উচ্চারন করা, অন্যটা অধ্যবসায়। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, সত্যকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হওয়া। তারপরে যখন সত্যটা মিলে যায়, তখন আনন্দে আপ্লুত হওয়া।

আর এই দু’য়ের সমন্বয়ের কারনেই যসুয়া ইভানস আজকে মুসলিম উম্মাহের একজন গর্বিত মুসলিম এবং সক্রিয় দায়ী। সুবহানআল্লাহ!

অল্প সময়ে সম্পূর্ন কাহিনী তুলে ধরা সম্ভব না। তাই শুধু বাইবেল থেকে একটি অসংগতিপূর্ন কাহিনী তুলে ধরছি। আল-কোরআনের  বর্নিত হযরত লুত (আঃ) এর কাহিনী সবারই জানা আছে। যার সমসাময়ীক সম্প্রদায়কে সমকামিতার অপরাধে সম্পূর্ন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। তার শহরের অধিবাসীদের প্রতি আল্লাহর এই আযাবের গল্প বাইবেলেও আছে। কিন্তু শহরের অধিবাসীরা আল্লাহর আযাবে পতিত হওয়ার পর হযরত লুত (আঃ) এর জীবনে এর পরে কি ঘটেছিল এবং এই ব্যাপারে বাইবেল কি বলে জেনে নিন।

[বাইবেলের অংশটি লাল অক্ষরে লিখলাম। অনুগ্রহ করে কেউ ভুল করে তাকে আল-কোরআনের অংশ মনে করবেন না।

পয়গম্বর লুত যোয়ার শহরে গিয়ে এক পাহাড়ে দুই মেয়েকে নিয়ে বাস করতে লাগলেন। তিনি শহরে বাস করতে ভয় পাচ্ছিলেন আর আর সেই কারনে পাহাড়ের একটি গুহায় বাস করতে লাগলেন।

এবং বড় কন্যাটি তার ছোট বোনটিকে বললো, “আমাদের পিতা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। এবং পৃথিবীর (সব মানুষ আযাবে পতিত হয়ে) ধ্বংস হয়ে যাবার পর আর কোন ছেলে মানুষও নাই যারা আমাদের সাথে থাকতে পারে। আসো আমরা আমাদের বাবাকে মদ্যপান করিয়ে নেশাগ্রস্ত করে তুলি এবং আমরা তার সাথে রাত্রি যাপন করবো – যাতে করে আমরা আমাদের বাবার বীজকে সংরক্ষন করতে পারি।”

অতঃপর তারা সেই রাত্রে তাদের বাবাকে মদ্যপান করালো এবং প্রথম কন্যাটি তার সাথে রাত্রি যাপন করলো। কখন মেয়েটি আসলো, রাত্রি যাপন করলো এবং উঠে চলে গেলো, তিনি (পয়গম্বর লুত) কিছুই জানতে পারলেন না।

পরের রাত্রে প্রথম কন্যাটি তার ছোট বোনটিকে বললো, “গতরাতে আমি বাবার সাথে রাত্রি যাপন করেছি। চলো আজকে রাতেও আমরা তাকে মদ্যপান করিয়ে নেশাগ্রস্ত করে দেই এবং আজকে তুমি তার সাথে রাত্রি যাপন করো, যাতে করে আমরা আমাদের বাবার বীজকে সংরক্ষন করতে পারি।”

অতঃপর সেই রাত্রেও তারা তাদের বাবাকে মদ্যপান করালো এবং ছোট কন্যাটি তার সাথে রাত্রি যাপন করলো। কখন মেয়েটি আসলো, রাত্রি যাপন করলো এবং উঠে চলে গেলো, তিনি (পয়গম্বর লুত) কিছুই জানতে পারলেন না।

আর এভাবেই পয়গম্বর লুতের দুই মেয়ে তাদের পিতার ঔরশজাত সন্তান গর্ভে ধারন করলো। প্রথম কন্যার গর্ভে একটি ছেলে সন্তান জন্ম হলো – যার নাম রাখা হলো মোয়াব। তিনিই হলেন মোয়াবাইটস জাতির পিতা (অর্থাৎ তার বংশধরেরা মোয়াবাইটস নামে পরিচিতি লাভ করলো)।

ছোট কন্যাটিও একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিল এবং তার নাম রাখা হলো বেন-আমী। তিনিই হলেন আমুন জাতির পিতা (অর্থাৎ তার বংশধরেরা আমুন নামে বিস্তার লাভ করলো)।

বাইবেলের কাহিনীটি এখানেই লুত (আঃ) এর গল্পটি শেষ করে। নাউজুবিল্লাহ! কত বড় মিথ্যাচার। এবার আসুন এই কাহিনীর অসংগতিগুলি কি কি পর্যালোচনা করি।

১) শহরে যদি মানুষ না থাকবে, তাহলে পয়গম্বর লুত কাকে ভয় পাচ্ছিলেন? কার ভয়ে পাহাড়ে গুহায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন?  আল্লাহ’র আযাবের ভয়তো উনার করার কথা না। কারন আল্লাহতো পয়গম্বরের পক্ষে। তাহলে শহরে মানুষ ছিল। যাদের ভয়ে তিনি পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন।

২) শহরে যদি মানুষ থাকবে, তাহলে পয়গম্বর কন্যাদের বাবার সাথে রাত্রি যাপন করার কি যুক্তি থাকতে পারে?

৩) যুক্তির খাতিরে ধরেই নিলাম – পৃথিবীতে আর কোন মানুষ ছিল না, এই ৩ টি মানুষ ছাড়া – পয়গম্বর লুত আর তার দুই কন্যা। কিন্তু যে পয়গম্বর আল্লাহ’র আদেশে সমকামীতার বিরুদ্ধে মানুষকে উপদেশ দিয়েছিলেন, জিহাদ করেছিলেন, যে গুনাহের কারনে আল্লাহ সমস্ত মানব জাতিকে (শুধু ৩ জন মানুষ ছাড়া) ধ্বংস করে দিলেন, তার কন্যারা কেমন করে তাদের নিজ বাবার সাথে রাত্রি যাপন করলো এবং তাদের বাবার ঔরসে গর্ভ ধারন করলো? ইংরেজীতে এই ধরনের পাপাচারকে বলা হয় ইনসেস্ট, বাংলায় অজাচার। যার অর্থ হলো – বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ – বিয়ে করা যাবে না এমন নিকট আত্মীয়ের সাথে শারিরীক সম্পর্ক করা। যেমন বাপ-মেয়ে, মা-ছেলে, ভাই-বোন…ইত্যাদি। এই পাপাচারতো সমকামীতার চেয়েও জঘন্য।

৪) লক্ষ্য করুন, দুই বোনের ঘরেই দুই ছেলে সন্তানের জন্ম হলো। তাহলে, এই ছেলেদের বংশধর কিভাবে বিস্তার লাভ করলো? যা কিনা মোয়াবাইটস এবং আমুন নামে পরিচিত হলো। তাহলে এই ছেলেরা কার সাথে রাত্রি যাপন করে – বংশ বিস্তার করলো?

৫) আবারো যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম পৃথিবীতে ৩ টি মানুষ ছাড়া আর কেউ ছিল না। এখন আল্লাহ যদি আদম (আঃ) কে বাবা মা ছাড়া সৃষ্টি করতে পারেন, আল্লাহ যদি বাবা ছাড়া ঈসা (আঃ) কে সৃষ্টি করতে পারেন, তাহলে কি তিনি বাবা ছাড়া লুত (আঃ) এর মেয়েদের গর্ভে সন্তান দিতে পারতেন না?

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, একবার ভেবে দেখুন। বাইবেলের মাত্র ছোট্ট একটা অংশ – আর কতগুলো অসংগতি পূর্ন বক্তব্যে ভরা। তারপরেও কি কোন সন্দেহ থাকতে পারে, এটা আল্লাহর রচিত সেই ইঞ্জিল শরীফ নয়, বরঞ্চ মানব রচিত বিকৃত তথ্যের একটি গ্রন্থ মাত্র? পয়গম্বরদের নিয়ে এই রকম আরো বহু ব্যাভিচার আর অনৈতিক গল্পে ভরা এই বাইবেল। আর যে ধর্মগ্রন্থে পয়গম্বররাই এমন ব্যাভিচারে লিপ্ত, যে ধর্মগ্রন্থ অনুসরন করে – সমাজে অনাচার ব্যাভিচার ছাড়া আর কি প্রাপ্তী থাকতে পারে? আর বাস্তবিকই তাই হচ্ছে না কি?

যসুয়া ইভানস বাইবেলে বর্নিত এই ধরনের মানুষগুলিকে নবী বলে মেনে নিতে পারেননি। যাদের নিজেদের নৈতিক চরিত্র নাই, তারা ধর্মের পয়গম্বর হয় কেমন করে? কেমন করে তাদেরকে আদর্শ হিসাবে মেনে নেওয়া যায়? এই দ্বন্ধে ভুগছিলেন যশুয়া। তাই বাইবেল পড়ে তিনি উপসংহারে পৌছান এটা ইশ্বরের লেখা কিতাব হতে পারে না। তাই তিনি খৃষ্টীয় ধর্ম পরিহার করে সত্য ধর্মের অনুসন্ধান করতে থাকেন।

অনেক বছর অনুসন্ধান করার পরে – অনেক অনেক ধর্ম অনুসন্ধান করেও যখন সত্যের সন্ধান পেলেন না। তখন তিনি উপসংহারে পৌছান যে ধর্ম বলে কিছু নেই, ইশ্বর বলে কিছু নেই।

তারও অনেক দিন পরে তার জীবনে ৩ টি ঘটনা ঘটে। প্রথম দু’টো দূর্ঘটনা – সময়ের অভাবে আজকে লিখছি না। আর তৃতীয় ঘটনাটি হচ্ছে আল-কোরআনের সন্ধান। আর আল-কোরআনের নুহ (আঃ), লুত (আঃ) প্রমূখ পয়গম্বরদের জীবন জানার পরে তিনি অবাক হয়ে ভাবলেন – কি চমৎকার চরিত্র এই নবীদের। এরাই সত্যিকারের আল্লাহ’র প্রতিনিধি, মানুষের নেতা হবার যোগ্য মানুষ। এদেরকেই জীবনের আদর্শ হিসাবে মানা যায়। আর সেই থেকে আগ্রহ ইসলাম সম্পর্কে।

মু’মীন বান্দা মুসলমানের ঘরে জন্ম নেয়না। জন্মসুত্রে পৃথিবীর সব মানুষই মুসলমান। কিন্তু বালেগ হওয়ার পর – একমাত্র জ্ঞান অন্বেষন করেই মানুষ হতে পারে মু’মীন মুসলমান।

আলহামদুলিল্লাহ, সম্পূর্ন নিজের অন্বেষনে – যসুয়া আজ মু’মীন বান্দাদের একজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসমিল উম্মাহ’র একজন প্রখ্যাত দাওয়াতী। আসুন, আমরা সবাই এই প্রার্থনা করি – মহান আল্লাহ-পাক যেন যশুয়া ইভানসের প্রচেষ্টা কে কবুল করে নেন এবং আমাদের সবাইকে তার মত হেদায়াত প্রাপ্ত হওয়ার, প্রকৃত মু’মীন হওয়ার তৌফিক দান করেন। আমীন!

Advertisements

About nishataboni

i am a teacher of abdul odud shah degree college. i want to creat free blog site.
This entry was posted in ইসলাম ধর্ম and tagged . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s