লোকমান হাকিম – এক আশ্চর্য চরিত্র: প্রথম পর্ব

লোকমান হাকিম – এক আশ্চর্য চরিত্র

 

আল্লাহতালা পবিত্র কোরআনে লোকমান হাকিমের কথা উল্লেখ করে বলেন যে , ‘ আমি লোকমানকে হেকমত তথা বুদ্ধি বিচক্ষণতা দিয়েছিলামঅবশ্য কোরআনে উল্লেখ থাকলেও তিনি কোন নবী বা রাসূল ছিলেন না তবে কোন নবী বা রাসূল না হলেও তাঁর স্বভাবচরিত্র , চালচলন, আচার ব্যবহার একজন নবী বা রাসূলের মতই ছিল তাঁর পিতামাতার সঠিক পরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না তবে একটি অনির্ভরযোগ্য সুত্রে পাওয়া যায় যে তিনি বাউর নামে জনৈক ব্যক্তির পুত্র ছিলেন

তাঁর জন্মস্থান এবং বাসভূমি সম্পর্কেও অনেক মতভেদ বিদ্যমান , ইমাম মুহাম্মাদ (রহঃ) এর এক বর্ণনাতে জানা যায় তিনি নওবা নামক এক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন প্রথম জীবনে তিনি শাম অধিবাসী এক ধনবান ব্যক্তির অধীনে গোলামির জীবন শুরু করেন তারপর তিনি গোলামির জীবন থেকে আজাদ হয়ে আল্লাহতালার অপার অনুগ্রহে অফুরন্ত শিক্ষদীক্ষা এবং হেকমত শিক্ষা লাভ করেন

শামদেশে তিনি তাঁর সেই শিক্ষদীক্ষা এবং হেকমতের অসংখ্য নজির স্থাপন করেন সেখান থেকে ফিলিস্তিন যান এবং সেখানেই কিছুকাল পর মৃত্যুবরণ করেন ও সমাহিত হন

অন্য এক বর্ণনায় দেখা যায় , লোকমান ছিলেন হাবশি সম্প্রদায়ের লোক তাঁর গায়ের বর্ণ কালো, ঠোঁট স্থুল ও দৈহিক গড়ন মোটাসোটা ছিল , পা দুটি খুব বেশি ভারি ছিল বাল্য জীবনে তিনি যখন বকরি চরাতেন তখন একটি সমবয়েসি বালকের সাথে তাঁর গাঢ় বন্ধুত্ব হয় পরবর্তী জীবনে সেই বাল্যবন্ধুটি ঘটনাক্রমে লোকমানের একটি শিক্ষা মজলিসে উপস্থিত হয়ে দেখল, বহু সগখ্যক লোক লোকমানকে ঘিরে বসে তাঁর কাছ থেকে এলেম ও হেকমত শিক্ষা করছে বিস্ময়াভিভূত হয়ে সেই বাল্যবন্ধু লোকমানকে লক্ষ্য করে বলল , ‘তোমাকে দেখে বাল্যজীবনের কথা মনে পড়ছে তুমি কি সেই লোক যার সাথে আমি মাঠে বকরি চরাতাম ?’

হযরত লোকমান লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন ,’হ্যাঁ বন্ধু তুমি ঠিকই ধরেছ আমি সেই লোক‘ , 

বাল্যবন্ধু জিজ্ঞেস করল বন্ধু , তুমি এই মর্যাদা কিভাবে অর্জন করলে !লোকমান জবাব দিলেন তিনটি স্বভাবের দ্বারা __

১/ কোনদিনই কারও সন্গে মিথ্যা বলি নি
২/ আমি কখনও কারো আমানতে খেয়ানত করি নি 
৩/ কারও সাথে আমি কখনও অযথা কথায় কালক্ষেপণ করি নি

*এই ৩ নম্বর গুণটি আল্লাহতালার বিশেষ প্রিয় অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে নিজেকে বিরত রাখা

এক বর্ণনায় পাওয়া যায় দাউদ(আঃ) কে নবুয়ত প্রদানের ৩ বছর পর আল্লাহতালা লোকমান হাকিমকে হেকমত প্রদান করেন তাঁর সেই হেকমত দ্বারা দাউদ(আঃ) উপকৃত হয়েছিলেন এই বর্ণনায় বোঝা যায় তাঁরা উভয়ে একই জমানার লোক ছিলেন একদিন তাঁরা একসাথে উপবিষ্ট ছিলেন , দাউদ(আঃ) ঐশী শক্তিবলে আগুনে বিগলিত করা ছাড়াই লোহার বর্ম তৈরি করেছিলেন লোকমান এতটা স্থিতধী ছিলেন যে এটি দেখেও দাউদ(আঃ) জিজ্ঞেস করেন নি যে এটা কি করে সম্ভব হল !

জামি-উত্-তারিখগ্রন্থে উল্লেখ আছে লোকমান একজন হাবশি গোলাম ছিলেন তাঁর মনিব জনৈক আরব বা বনি ইসরাঈল বংশীয় লোক ছিলেন অন্য একজন ভৃত্য একদিন মনিবের খাদ্যদ্রব্য চুরি করে খেয়ে ফেলায় মনিব উভয়কে সন্দেহ করলেন লোকমান তাঁর মনিবকে পরামর্শ দিলেন উভয়কে গরম পানি পান করিয়ে পরীক্ষা করার যে ঐ খাদ্য ভক্ষণ করেছে বমির সাথে তার কিছু অংশ নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসবে এই পরীক্ষা করার পর দেখা গেল অন্য ভৃত্যটির বমির সাথে চুরিকৃত খাদ্যদ্রব্যের কিছু কিছু অংশ বেরিয়ে এল এটি দেখে মনিব লোকমানের খুবই প্রশংসা করলেন এবং এত বেশি খুশি হলেন যে তখনই তাঁকে মুক্ত করে দিলেন

আর একটি বর্ণনায় দেখা যায় বনি ইসরাঈল বংশীয় এক লোক ৩০ স্বর্ণ মিসকালের বিনিময়ে লোকমানকে খারিদ করে এনে নিজের কাজে লাগান জংগল থেকে কাঠ কেটে আনা ছিল তাঁর কাজ একদিন মনিব লোকমানসহ নদীতীরে ভ্রমণ করার সময় মনিবের অন্য এক বন্ধুও সেখানে হাজির হলে উভয়ে একসময় বাজি ধরে পাশা খেলায় বসে যান বাজি হল এরকম , যে পরাজিত হবে তাকে একই শ্বাসে এই নদীর সমস্ত পানি পান করতে হবে , তাতে অক্ষম হলে নিজের যাবতীয় ধনসম্পদ বিজয়ীকে দিয়ে দিতে হবে এক কপর্দকও নিজের কাছে আর রাখতে পারবে না দীর্ঘসময় ধরে খেলা চলল দূর্ভাগ্যবশতঃ লোকমানের মনিব পরাজিত হলেন বন্ধু বলল হয় নদীর পানি পান করে নিঃশেষ কর অথবা তোমার সমগ্র ধনসম্পদ আমাকে দান কর মনিব কৌশলে একদিন সময় চাইলেন বন্ধু রাজি হলেন সেইসন্গে হুঁশিয়ার করলেন পরদিন প্রতিশ্রুত ধনসম্পদ না দিলে শক্তি প্রয়োগ করেই হস্তগত করবেন

রাতে মনিবকে আহারনিদ্রা ত্যাগ করে নির্ঘূম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখে লোকমান তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বললেন এর সমাধান তো অত্যন্ত সহজ ! আপনি নিশ্চিন্তে খাওয়া দাওয়া সেরে নিদ্রা যান কাল এর সমাধান করে দিচ্ছিকথাবার্তা চলাকালেই মনিবের সেই বন্ধুটি সেখানে হঠাৎ হাজির হলে লোকমান তাকে বললেন চল হে আমরা নদীর কিনারে যাই আমার মনিবও সেখানে যাবেন এবং নদীর সমস্ত পানি পান করে ফেলবেন অগত্যা বন্ধুটি যেতে বাধ্য হলেন লোকমানের সন্গে নদীর ধারে সেখানে পৌঁছে লোকমান মনিবের বন্ধুটিকে বললেন গতকাল আমার মনিবের সন্গে তোমার যখন বাজি হয়েছিল তখন নদীতে যে পানি ছিল , সেই পানিই তো পান করার কথা ! কিন্তু আজ তো সেই পানি নেই তা ভাটার স্রোতে অন্যত্র চলে গেছে তার স্থলে অন্য পানি এসে পড়েছে অতএব তোমাকে গতকালের সেই পানি এনে দিতে হবে তারপরই আমার মনিব তা পান করবেন আর যদি তুমি বল , নদীতে আজ যে পানি আছে তাই পান করতে হবে তাহলে অন্যত্র থেকে এক ফোঁটা পানি এসে এর সাথে মিলিত হতে পারবে না তাড়াতাড়ি পানির স্রোত বন্ধ করে দাও অথবা নদীর দুই দিকের পানি উঠিয়ে ফেল , এরকম না করলে আমার মনিব একদিক দিয়ে পানি পান করতে থাকবেন আর অন্যদিক দিয়ে সদ্যস্রোত এসে নদী পূর্ণ করতেই থাকবে , সেরকম হলে কেয়ামত পর্যন্ত পানি পান করতে থাকলেও নদীর পানি কোনদিনই শেষ হবে নামনিবের বন্ধুটি এই উত্তর শুনে হতবাক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল মোটকথা তাকে এমন সমস্যায় ফেলে দেয়া হল যার সমাধান কোনমতেই তার পক্ষে সম্ভব নয় লোকমানের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের গুণে মনিবের ধনসম্পদ রক্ষা পেল অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে মনিব তাঁকে গোলামির নাগপাশ থেকে মুক্ত করে দেন

লোকমানের গোলামিজীবন থেকে মুক্তিসম্পর্কিত আর একটি বর্ণনায় পাওয়া যায় , মনিব তাঁকে বললেন লোকমান ! তুমি একটি বকরি জবাই করে তার যাবতীয় গোশত থেকে সর্বোত্তম দুই টুকরো গোশত ভুনা করে মায় খেতে দাওলোকমান কথামত একটি বকরি জবাই করে তার জিহ্বা ও গুর্দা ভুনা করে মনিবকে খেতে দিলেন এর কিছুদিন পর মনিব আবার নির্দেশ দিলেন একটি বকরি জবাই করে সর্বনিকৃষ্ট দুই টুকরো গোশত ভুনা করতে লোকমান নতুন বকরির জিহ্বা ও গুর্দাই আবার ভুনা করে পেশ করলেন মনিব বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলেন লোকমান ! একই গোশত সর্বনিকৃষ্ট ও সর্বোত্তম হয় কি করে ?’ লোকমান জবাব দিলেন জনাব , যে কোন জীবের জবান এবং গুর্দাই হল তার সমস্ত দেহের প্রধান বস্তু অর্থাৎ যার জবান এবং দিল উত্তম , তার সারাদেহ ও মন তার প্রভাবে উত্তম হয় , আর যার জবান ও দিল খারাপ তার অন্যান্য অন্গ ও মনও তার প্রভাবে খারাপ হয়ে যায় অর্থাৎ জবান ও দিল এই দুটি সর্বনিকৃষ্টও বটে আবার সর্বোত্তমও বটে লোকমানের কথ শুনে তাঁর সুক্ষ জ্ঞানের গভীরতা উপলব্ধি করে মনিব যারপরনাই খুশি হলেন ও তাঁকে তখনই গোলামি থেকে অব্যহতি দান করলেন

ভিন্ন এক বর্ণনায় দেখা যায় , লোকমানের মনিব তাঁকে এক জমিতে তিল বপনের জন্য পাঠালেন লোকমান সেখানে গিয়ে চাষ করলেন ঠিকই কিন্তু তিলের পরিবর্তে জও বপন করলেন কিছুদিন পর মনিব গিয়ে দেখলেন সেখানে তিলের গাছমাত্র নেই শুধু জও বপন করা হয়েছে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে মনিব লোকমানকে তলব করে বললেন কি হে , জও বপন করেছ কেন ? তোমাকে না তিল বপন করতে বলেছিলাম আমি ? এই খামখেয়ালির জন্য তোমাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে লোকমান বললেন আমি জানতাম যে জও বপন করলে তাতেই তিল হয়ে থাকে , তাই আমি জমিনে জও বুনেছিলামমনিব হেসে বললেনতোমাকে তো আমি বুদ্ধিমান মনে করেছিলাম এখন দেখছি তোমার মত মূর্খ বোকা দ্বিতীয়টি নেই জও বপন করলে জও গাছই তো হবে তাতে তিল হবে কেমন করে !লোকমান জবাব দিলেন জনাব , আমার এরকম আশা করার আরো একটি প্রধান কারণ এই যে, আমি দেখছি আপনি অনবরত পাপের কাজ করে মনে মনে উত্তম ফল তথা বেহেশতের আশা করছেন যদি তা আপনার জন্য সম্ভব হয় , তবে জও চাষ করে তিলের আশা করা আর বেশি কথা কি ?’ লোকমানের মুখে এই জবাব শুনে মনিব চমকে উঠলেন তার মোহনিদ্রা নিমেষেই টুটে গেল , খুবই খুশি হলেন , মনে মনে লোকমানের জ্ঞানের গভীরতা ও প্রজ্ঞা উপলব্ধি করে তখনই লোকমানকে মুক্ত করে দিলেন  

যাই হোক, গোলামির জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে লোকমান স্বাধীন জীবনযাপন শুরু করলেন তাঁর চারিত্রিক গুণ ও পবিত্রতা, প্রখর যুক্তি, বিচক্ষণতা এবং ধর্মীয় ভাবধারার মূল শক্তি ও প্রতিভা তিনি আল্লাহতালার অনুগ্রহে জন্মগতভাবে পেয়েছিলেন পূর্বোল্লিখিত ঘটনায় তার ছাপ পাওয়া যায়

জামি-উত-তারিখগ্রন্থে আছে গোলামি জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আল্লাহতালা লোকমানকে হেকমতের খাজানা দিলেন এবং তাঁর চারিত্রিক ঊৎকর্ষও বহুগুণে বাড়িয়ে দিলেন একদিন তিনি নিজের শয্যায় বিশ্রামরত ছিলেন এমন সময় আল্লাহতালার এক দূত এসে তাঁকে সালাম দিয়ে বললেন হে লোকমান , আল্লাহতালা আপনার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে , তিনি আপনাকে দুনিয়াতে বিরাট বাদশাহি দেবেন একথা শুনে লোকমান বললেন বাদশাহি গ্রহণ করা তো আমার পক্ষে সম্ভব হবে না যেহেতু জনসাধারণের প্রতি যথোচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে আমি আল্লাহতালার দরবারে লজ্জিত ও অপমানিত হব , আবার কোন কোন ক্ষেত্রে তা করতে গেলে মানুষের কাছে আমি ধিকৃত, তিরষ্কৃত ও অভিশাপের পাত্র হয়ে পড়ব দূত তাঁর এই যুক্তিপূর্ণ ও অর্থব্যন্জক কথা শুনে তাঁর দিকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে তাকিয়ে বিদায় নিলেন ও আল্লাহতালার দরবারে তাঁর এই মনোভাবের কথা ব্যক্ত করলেন এই ঘটনার কিছুদিন পরে আল্লাহতালা স্বয়ং এলহামযোগে লোকমানকে বললেন, ‘হে লোকমান, আমি তোমার জন্য আমি নবুয়ত ও হেকমত এই দুটি বস্তুর যে কোন একটি নির্দিষ্ট করেছি বল , তুমি এর কোনটি পছন্দ কর ?’ লোকমান নবুয়তের দায়িত্ব অত্যন্ত ভারি মনে করে হেকমতকেই পছন্দ করলেন তারপর আল্লাহতালা একদিন গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হযরত লোকমানের বক্ষমধ্যে হেকমতের ভান্ডার প্রবেশ করিয়ে দিলেন পক্ষান্তরে , দাউদ(আঃ) কে আল্লাহতালা একইসাথে খেলাফত ও নবুয়ত দুটিই দিলেন

লোকমান প্রায়শঃই দাউদ(আঃ) দরবারে গমনাগমন এবং অবস্থান করতেন একদিন দাউদ(আঃ) লোকমানকে বললেন তোমার জন্য একটি অতি সুসংবাদ এই যে, আল্লাহতালা তোমার অন্তরে হেকমতের ভান্ডার দিয়েছেন এবং তার মাধ্যমে দুনিয়াতে সর্বশ্রেষ্ঠ হাকিম তথা সুক্ষ বুদ্ধি বিবেচনা এবং বিচক্ষণতার বাদশাহ করা হয়েছে

কথিত আছে যে আল্লাহতালার প্রদত্ত হেকমতের বলে লোকমান স্বর্ণ ও রৌপ্য তৈরির কৌশল প্রয়োগ করে প্রভূত ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন ঐ সম্পদ দিয়ে বিরাট ব্যবসা শুরু করে দেন কৃপণ না হয়ে তিনি বিরাট দানশীল ব্যক্তিতে পরিণত হন মুক্তহস্তে গরীব দুঃখীকে দান করতেন, অবাধে কর্জ দিয়ে অনেককে ব্যবসায়ী হতে সাহায্য করেছিলেন

Advertisements

About nishataboni

i am a teacher of abdul odud shah degree college. i want to creat free blog site.
This entry was posted in ইসলাম ধর্ম and tagged . Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s